Wed. Dec 11th, 2019

Janadarpan

জনদর্পণ জনতার– প্ল্যাটফর্ম

সুদীপ হত্যা মামলায় যুক্ত টিএসআরের এক এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট

1 min read

আগরতলা : সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিকের নৃশংস হত্যা মামলায় পরোক্ষভাবে যুক্ত টিএসআরের এক এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট। সুদীপ খুনের টানা প্রায় ২ বছর বাদে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই’র জালে উঠলো সেই বিতর্কিত অফিসার স্বরূপানন্দ বিশ্বাস। জানা গেছে, বুধবার কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পরই সিবিআই’র টিমের হাতে গ্রেপ্তার হয় সাংবাদিক খুনে মদতদানকারী এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট। যার বিরুদ্ধে তখন থেকেই তদন্তের দাবি উঠেছিল। ২০১৭’র ২০ সেপ্টেম্বর ও ২১ নভেম্বর। সেই অভিশপ্ত দিন দুটি কখনো ভোলার নয়। রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের কাছে সেই দুটো দিন শুধু অভিশপ্ত নয়, যুগে যুগে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারের জন্য জোরালো দাবি থাকা সত্ত্বেও বাম প্রশাসকরা সেই সময় সিবিআই তদন্ত দিতে অস্বীকার করেন। দেশ, রাজ্য ও জনগণের স্বার্থে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্মমভাবে ঘাতক বাহিনীর হাতে খুন হন দুই সাংবাদিক। আর সেই খুনের সুষ্ঠু তদন্তের নামে চলে ভড়ং। বড়োই নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে খুন হয়েছিলেন সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিককে। রাজ্যের তথাকথিত গর্বের ও সুশৃঙ্খল বাহিনী বলে পরিচিত টিএসআরের এক আধিকারিকের প্ল্যান মাফিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে অকালে প্রাণ হারাতে হয় সুদীপকে। ২০১৭’র ২১ নভেম্বর বোধজংনগর থানাধীন আরকে নগরের টিএসআর দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নের হেডকোয়ার্টারে একে 47 রাইফেলের গুলিতে দিনদুপুরে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় ক্রাইম রিপোর্টার সুদীপ দত্ত ভৌমিক। হত্যার পরে প্রমাণ লোপাট সহ তাঁর দেহ গুম করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। যদিও ঘটনার পর সোর্স মারফতে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের কাছে সহকর্মী খুনের খবর চলে আসায় সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। এরপরই শুরু হয়েছিল পুলিশ ও টিএসআর কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ। পুরো ঘটনায় সুদীপকে খুন করার পেছনে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে বাহিনীর সর্বেসর্বা তথা কমান্ডেন্ট তপন দেববর্মা ও তার দেহরক্ষী নন্দুলাল রিয়াংয়ের নাম। ঘটনার পর প্রথমেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে দেহরক্ষীকে। পরবর্তী সময়ে ঘটনার দিন গভীর রাতে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয় কমান্ডেন্টকেও। পরদিনই রাজ্য সরকার সাংবাদিক খুনের তদন্ত এসআইটি তথা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের কাছে সপে দেয়। আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে এনে তপন ও তার দেহরক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে সিটের আধিকারিকরা এই হত্যাকান্ডে আরো বেশ কয়েকজনের নাম জানতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রাইফেলম্যান ধর্মেন্দ্র সিং ও নায়েক সুবেদার অমিত দেববর্মাকে। তবে সাংবাদিককে বর্বরোচিত খুনে সেদিন অন্ততপক্ষে ১০ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তের সুত্রে উঠে আসে এক এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট সহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম। অভিযোগ ঘটনার দিন সুদীপ হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল দ্বিতীয় বাহিনীর এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট স্বরূপানন্দ বিশ্বাস ও ট্রাফিক সিগন্যাল পদে কর্মরত নায়েক সুবেদার অমল দাস। সুত্রটি আরো জানায়, এই অমল দাস আবার সিপিএমের পশ্চিম জেলার এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সুদীপকে গুলি করে খুনের পর সে কমান্ডেন্টকে থ্যাঙ্কস জানায় বলেও সুত্রটি জানায়। আরো খবর, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২১ নভেম্বর নিহত সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিক বেশ কিছু সময় এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট স্বরূপানন্দ বিশ্বাসের চেম্বারে ছিলেন। দুজনের মধ্যে কিছুক্ষন কথাবার্তাও হয়। তখন থেকেই তাকে খুনের মাস্টার প্ল্যান রচিত হয়। ব্যাটেলিয়ন সূত্রে আরো জানা যায়, সুদীপকে খুনের আগে কমান্ডেন্ট তপন দেববর্মার নির্দেশে নির্মমভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছিল।। এই অবস্থায় রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব দুই সাংবাদিক খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক অনেকদিন ধরেই সুদীপ ও শান্তনু খুনে তদন্তে নেমে পড়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। এবার সুদীপ খুনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়লো সেই বিতর্কিত এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট স্বরূপানন্দ বিশ্বাস। যার বিরুদ্ধে সুদীপ হত্যায় পরোক্ষভাবে কমান্ডেন্ট তপন দেববর্মাকে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রে জানা যায় বুধবার কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই অফিসারদের হাতে গ্রেপ্তার হয় এসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট। খুব সহসাই আরো কয়েকজন সিবিআই’র জালে উঠতে পারে বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. |