Wed. Oct 23rd, 2019

Janadarpan

জনদর্পণ জনতার– প্ল্যাটফর্ম

রাজ্যের প্রান্তিক কৃষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে অংশগ্রহণ করেন ত্রিপুরার কৃষক মন্টু দেবনাথ

1 min read


দক্ষিণ ত্রিপুরা ১৭ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী কৃষাণ মানধন যোজনা ও এক অন্যান্য প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রান্তিক কৃষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে অংশগ্রহণ করেন ত্রিপুরার কৃষক মন্টু দেবনাথ

গত বৃহস্পতিবার 12 ই সেপ্টেম্বর ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা করেন।সেখানে প্রধানমন্ত্রী কৃষান মানধন যোজনা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মানধন যোজনা যারা পেনশন প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তার মধ্যে 7 জন কৃষক কে প্রধানমন্ত্রী নিজে হাতে পেনশনের সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছেন। তার মধ্যে একজন ত্রিপুরার ক্ষুদ্র কৃষক মন্টু দেবনাথ বাড়ির শান্তিরবাজার মহকুমার গঞ্জের টিলা এলাকায়। ওই দিন এই অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে যোগদান করেন।এই প্রকল্পে 18 থেকে 40 বছর বয়সী কৃষকরা এই প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে 60 বছর বয়স থেকে 3 হাজার টাকা করে আর্থিক পেনশন নিয়ে পরিবারের আর্থিক সুনিশ্চিত করতে পারেন। সোমবার ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায় আগরতলাতে মন্টু দেবনাথ কে নিয়ে কৃষকদের সামনে আবেদন রাখেন। কৃষক থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উনারা যেন এই পেনশন প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের ভবিষ্যত আর্থিক দিক দিয়ে সুরক্ষা করেন।এরপর মন্টু বাবু জানায় উনার পরিবারের মোট 10 জন সদস্য নিয়ে খুব একটা দুঃখের সংসার ঘরে রয়েছে ভাই বোন ও মা।খুব ছোটবেলা থেকে নাকি পারিবারিক দুর্দশার কারণে বাবার সাথে অন্যের জমিতে চাষবাস করতেন।এরপর একটা সময় বাবাকে হারাতে হয়েছে।বর্তমানে উনি মৎস্য চাষ রাবার ধান চাষ করেন রয়েছে ক্ষুদ্র একটি দোকান। এরপর মন্টু বাবুর মা সাক্ষাৎকারে জানায় ছেলে কৃষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ এর কথা জেনে চোখে জল ধরে রাখতে পারিনি। উনি বলেন আমার ছেলের খুব কষ্টের জীবন। আমার যৌথ পরিবার আমি সবাইকে নিয়ে থাকি ছেলেরা উচ্চশিক্ষিত কিন্তু সরকারি চাকুরি এখনো কপালে না জোটায় সবাইকে এই কষ্ট করে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবন ধারন করতে হয়।এরপর সত্যি এই কথাগুলো বলতে গিয়ে মন্টু বাবুর মা আমাদের সামনে চোখ থেকে শুধু জল পড়তে থাকে। আর আজকে মন্টু বাবুর মা উনি খুব গর্বিত ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরার সরকার ও কৃষি দপ্তর কে।কথা প্রসঙ্গে বলেন উনার স্বামী আজ বেঁচে নেই। না হলে ছেলের এই সাফল্য দেখে খুব খুশি হতেন। এরপর স্বামী সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন একদা অন্যের জমিতে ধান চাষ করেছিলেন ও পাশাপাশি অন্যান্য ফসলও চাষবাস করেছিলেন।তখন হঠাৎ করে একদিন পোস্টমাস্টার জমিনের মাঝেই গিয়ে বলেন দাদা আপনার চাকরি হয়ে গেছে স্কুল শিক্ষকের। এরপর চাকরি চলাকালীন রোগাক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান তাই আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য কৃষির সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।আমি নিজেও কত ধান কেটেছি ,কিন্তু আমার এখন ভালো লাগে আমার ছেলেরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনে। আমার একটা দুঃখ স্বামী খুব অল্প বয়সে মারা যায়।আর আমার উচ্চিশিক্ষিতা মেয়ে ও সাংসারিক জীবনে প্রতারণার শিকার হয়।কিন্তু আজ ভালো লাগছে 135 কোটি দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলের সাথে সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছেন। কিন্তু আমি একথাটা বলব আমার ছেলে যে সম্মানটুকু পেয়েছে তা শুধু আমার ছেলের নয়। সারা রাজ্যের কৃষকদের সম্মান। এরপর তিনি কবিতার ভাষায় দু একটা লাইন বলেন।
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে,
সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে।
শান্তিরবাজার থেকে বিশ্বজিৎ দাস এর প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. |