Wed. Feb 26th, 2020

Janadarpan

জনদর্পণ জনতার– প্ল্যাটফর্ম

বিয়েড পরীক্ষার ফল জানা হলো না বন্ধনা দেবর্বমা(মনি) ও মাম্পি ( সম্পা) দাসের

1 min read

গত ১৪ ডিসেম্বর পঞ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদের রাইপুর ডি য়েড ইন্সটিটুয়েশানে বি য়েড পরীক্ষা দিতে যায় বিলোনীয়া শিশুদ্যান এলাকার গৃহ বধু বন্ধনা দেবর্বমা। সাথে ছিলেন তার স্বামী আকাশ ত্রিপুরার সাংবাদিক তথা বিলোনীয়া প্রেশ ক্লাবের সদস্য প্রতাপ দেবর্বমা এবং তাদের ছোট্ট একমাত্র মেয়ে স্নেহা।
১৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার মুর্শিবাদ থেকে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মঙ্গলবার রাতে মুর্শিবাদ থেকে কুচবিহার রাত্রিযাপন করেন বন্ধনা দেবর্বমা সহ তার পরিবার। সেখানে পরিচয় হয় অমরপুর মহকুমার বীরগঞ্জ থানার বামপুর গ্রামের মাম্পি দাস (সম্পা) এবং বিলোনীয়া শালটিলার সোমা বণিক ও অমরপুর রাঙ্গামাটি এলাকার বিকাশ দাসের সাথে। এরা প্রত্যেকে বি য়েড পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে বাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রা দেবেন। এমনিতে এন আর সি ও সি এ বি নুয়ে গোটা দেশ গভীর উৎকন্ঠায়। যাতায়াতের নেই প্রয়োজনীয় যানবাহন। কুচবিহার থেকে তারা সকলে একত্রিত হয়ে বুধবার কুচবিহার বাস স্টেন্ড থেকে দুটি টোটো রিজার্ভ করে কুচবিহার রেল ষ্টেশানের উদ্দেশ্যে রওয়া হয়।
বন্ধনা দেবর্বমা ও তার মেয়ে স্নেহা, সোমা বণিক, মাম্পি দাস, বিকাশ দাস তারা একটি টোটোতে এবং অন্য একটিতে প্রতাপ দেবর্বমা এবং সোমা বণিকের স্বামী জীবন দে।
টোটো দুটি পূর্ণবাড়ী থানার অন্তগত কুচবিহার ফ্লাই ওভারের বাইশ বুড়ি এলাকায় পৌছতেই উল্টো দিক থেকে আসা অর্থাৎ কুচবিহার রেল ষ্টেশনের দিক থেকে আসা একটি বুলারো পিকাপ ভেন প্রথম টোটোটিকে প্রচন্ড গতিতে ধাক্কা মারে এবং বুলোরো পিকাপ ভেন সহ টোটেটি ফ্লাই ওভার থেকে নীচে পরে যায়। ঘটনা স্হলেই মৃত্যু হয় বন্ধনা দেবর্বমা ও মাম্পি দাসের। মারাক্তক আহত হন সোমা বণিক ও বিকাশ দাস।
খবর পেয়ে পূর্নবাড়ী থানার পুলিস এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা ছুটে আসেন। তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কুচবিহার সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে সম্পা ও বন্ধনার ময়না তদন্ত হয় এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বন্ধনা দেববর্বমার বাড়ী ছুটে যান সিপিআই (এম) বিলোনীয়া মহকুমা সম্পাদক তাপস দত্ত, পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য দীপঙ্কর সেন, বিলোনীয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সম্পাদক সহ প্রেস ক্লাবের সকল সদস্য। টেলিফোনে বন্ধনা দেবর্বমার স্বামী প্রতাপ দেবর্বমার সাথে কথা বলেন সিপিআই(এম) দক্ষিন জেলা সম্পাদক বাসুদেব মজুমদার, বিধায়ক সুধন দাস, পার্টির বিলোনীয়া মহকুমা সম্পাদক তাপস দত্ত সহ বিশিষ্ট জনেরা।
বিলোনীয়া প্রেস ক্লাবের সদস্যরা দুর্ঘটনার বিষয়টি দক্ষিন ত্রিপুরা জেলাশাষক দেবপ্রিয় বর্ধনকে জানান। জেলাশাষক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ী পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কুচবিহার জেলাশাষকের কাছে আবেদন করেন। স্হানীয় প্রশাষন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করেন।
তাপস দত্ত দুর্ঘটনার বিষয়ে কুচবিহার সিপিআই(এম) নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে কুচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান কুচবিহার পার্টির নেতা ও ডি ওয়াই এফ আই নেতৃত্ব। তাদের প্রচেষ্টায় বন্ধনা দেবর্বমা ও মাম্পি দাসের মৃতদেহ কুচবিহার থেকে ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে বাই রোডে রওনা হয়।
ঘটনায় বিলোনীয়া সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান সিপিআই(এম) বিলোনীয়া মহকুমা কমিটি। পার্টির বিলোনীয়া মহকুমা কমিটি নিহত বন্ধনা দেবর্বমা ও মাম্পি দাসের পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের চিকিৎসার সব ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানান। শোক এবং সমবেদনা জানান সিপিআই(এম) দক্ষিন জেলা কমিটি। শোক প্রকাশ করেন বিলোনীয়া প্রেস ক্লাব।
বন্ধনার মৃত্যুর পর ছোট্ট স্নেহা শুধুই দুই চোখে তার মাকে খুঁজছে। মায়ে কোলে বসে বাড়ী ফেরা আনন্দে আত্মহারা ৫ বছরের স্নেহার চোখ এখন শুধুই মায়ের ছায়া। কুচবিহার বাসস্টেন্ড থেকে মায়ের কোলে বসে টোটোতে করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে কুচবিহার রেল ষ্টেশানে আসছিল স্নেহা ও তার মা। সব কিছু ঠিকি ছিল। এটা ফ্লাই ওভার, এগিলি সবুজ মাঠ। সোনালী রোদ্রের হালকা চাওনি মাঝে মাঝে এক ঝাক কুয়াশা। পকৃতির অপরূপ সুন্দৌর্য উপভোগ করতে স্নেহার হাজারো প্রশ্নের উত্তর হাসি মুখে দিয়ে চলছেন মা বন্ধনা। নানা হাসি ঠাট্টার মাঝে শুধুই এক বিকট শব্দ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব যেন কালো অন্ধকার হয়েযায়। রাস্তার পাশে বালুর স্তুপে স্নেহা হাঁটু ভেঙ্গে বসা। তার পাশে পরে রয়েছে রক্তাক্ত সব মানুষের দেহ। কোথায় মা? মাকে জোরে জোরে ডকতে থাকে স্নেহা। হঠাৎ তার চখ গিয়ে পরে রাস্তার পাশে পরে থাকা পাথরে স্তুপে মায়ের শাড়ি পড়া রক্তমাখা এক মহিলা। কাছে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে। আর বলে তোমার মাথা থেকে রক্ত পরছে আমি মুছে দিচ্ছি। নিজের জামা দিয়ে মায়ের রক্ত মুছতে থাকে আর বলতে থাকে কিছু হবেনা বাবা ঔষধ এনে দেবে আর ঘুমতে হবেনা এবার উঠ। গাড়ি ছেড়ে দেবে বাড়ী যাবো কি করে? উঠ।
বাবা প্রতাপ এবং প্রত্যক্ষ দর্শিরা স্নেহা তার মায়ের প্রতি স্নেহ দেখে বাক রুদ্ধ হয়ে যান। বাক রুদ্ধ হয়ে পরে উদ্ধার করি দল পুলিস, দমকল কর্মিরা। মা নেই স্নেহ কিছুতেই মানছেনা। মায়ের জন্য অধির আগ্রহে বসে আছে মায়ের মৃতদেহের পাশে। কোন কথা নেই, শুধু একটাই শব্দ মা। মা ওঠ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. |