September 30, 2020

Janadarpan

জনদর্পণ জনতার– প্ল্যাটফর্ম

বায়োফ্লকের ধ্যান ধারণা

1 min read

Web Desk JanaDarpan : আজকাল বায়োফ্লক নিয়ে অনেক কিছুই আমারা দেখছি শুনছি জানছি কিন্তু তারপরও বায়োফ্লক নিয়ে একটা সঠিক ধারণা আমাদের বেশিরভাগেরই নেই বললেই চলে। মাছ চাষ মানেই আমাদের কাছে কিছু পোনা পুকুরের ফেলে দেয়া তারপর সময়ে অসময়ে সেগুলো ধরে খেয়ে নেওয়া – আজও আমাদের সিংহভাগের কাছেই মাছ চাষের অর্থ শুধুই এতটুকুই।পেশাগত অথবা ব্যবসাহিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে উন্নত মাছ চাষের গুরুত্ব আমাদের কাছে নেই।

অ্যাকোয়া ডক্টর সলিউশন “ঘরে ঘরে চাষ ঘরে ঘরে মাছ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং উন্নত পদ্ধতিতে মাছ চাষ নিয়ে আজ একবছরের বেশী সময় ধরে কাজ করছে। আজকের আলোচনায় চেষ্টা করবো মাছ চাষের বিষ্ময়কর প্রযুক্তি বায়োফ্লক নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা যেনো সবার কাছে পৌঁছায়।

● বায়োফ্লক কি?

মৎস্য চাষে একবিংশ শতাব্দীর নয়া বিস্ময় হচ্ছে “বায়ো ফ্লক” টেকনোলজি।কম জায়গাতে কম খাদ্য ব্যবহার করে অধিক মাছের উৎপাদন করাই এই টেকনোলজির মুল উদ্দেশ্যে।এখন মনে প্রশ্ন জাগে সেটা কি করে সম্ভব!
সেটা জানতে হলে বুঝতে হবে বায়ো-ফ্লকের আক্ষরিক অর্থ কি।বায়ো শব্দের অর্থ ‘জীবন’ এবং ফ্লক শব্দের অর্থ “গুচ্ছ”।এই জীবন গুচ্ছ বলতে মূলত সেই সমস্ত ব্যাকটেরিয়াদের কথা বলা হয়েছে যারা জলীয় পরিবেশে নাইট্রেট নাইট্রাইড এবং অ্যামোনিয়ার মত বিশাক্ত পদার্থ গুলিকে প্রোটিনে রূপান্তরিত করতে পারে।

আরো সহজে বলতে গেলে যেই প্রযুক্তিতে উপকারী ব্যাক্টেরিয়াদের মাধ্যমে মাছের মল তথা অ্যামোনিয়া সম্বলিত বর্জ্য পদার্থ গুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট তথা শর্করা (চিনি,গুড়,মোলাসিস) মিশিয়ে যে প্রোটিন সম্বল খাদ্য কোষ তৈরি হয় এবং এই খাদ্য কোষ গুলো মাছ আহার হিসেবে গ্রহণ করে নিজের দেহ বৃদ্ধি ঘটায় এবং এই অবিরাম প্রক্রিয়ার জন্য জলীয় পরিবেশ সুস্থ থাকে তাকেই বলা হয় “বায়োফ্লক”।

● বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের উপকারিতা কি?

বায়োফ্লক কি তা না হয় বোঝা গেলো কিন্তু কথা হলো যেখানে আমরা মাছ চাষ বলতে পুকুরে মাছ পালন বুঝি সেই ক্ষেত্রে এতো প্রযুক্তি-ট্রযুক্তির প্রয়োজন কোথায়?

বর্তমানে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর এবং চাষ যোগ্য জলাশয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ উৎপাদন একটা বিশাল চ্যালেঞ্জের ব্যপার,সেই ক্ষেত্রে বায়োফ্লক বিশাল বড় একটি বিকল্প হতে পারে। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সুবিধা গুলি নিন্মরূপ –

》বায়োফ্লক মাছ চাষের মাধ্যমে অল্প জায়গায় অধিক মাছ উৎপাদন করা যায় ।

》 মাছ উৎপাদনে মূলধনের সিংহভাগ খরচ হয় মাছের খাদ্যের জন্য যেখানে প্রচলিত বিশেষ পদ্ধতি গুলিতে এক কেজি মাছ উৎপাদন করতে প্রায় দেড় কেজি খাবার দিতে হয় সেই ক্ষেত্রে বায়োফ্লকে তার কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ কম খাবার দিতে হয় কারণ এই কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ খাবার জলরাশিতে থাকা হেটারোট্রপিক ব্যাকটেরিয়া সমূহের কারণে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই তৈরি হয়।

》 বাজারে যেসমস্ত মাছের দাম খুবই বেশী সেই সমস্ত মাছ চাষের জন্য বায়োফ্লক চুড়ান্ত উপযোগী।

》প্রচলিত মাছ চাষের মতো বায়োফ্লকে অধিক জায়গার প্রয়োজন হয়না। উপরন্তু শহরের যারা বসবাস করেন ওনারা চাইলে বাড়ির ছাদেই এই পদ্ধতিতে মাছের চাষ করতে পারেন।

》মাছ চাষের প্রচুর আধুনিক পদ্ধতি আছে তবে সেই সব অনেক ব্যায় বহুল কিন্তু বায়োফ্লক উচ্চাআধুনিক পদ্ধতি হওয়ার সত্যেও তুলনা মূলক ভাবে অনেক কম পূঁজি দিয়ে এর সূচনা করা যায়।

》একটি নির্দিষ্ট জল রাশিতে অতিরিক্ত পরিমাণে মাছ রাখলে সেখানে মাছের ত্যাগ করা অ্যামোনিয়া যুক্ত বর্জ্য পদার্থের কারণে জলের স্বাভাবিক প্যারামিটার ভারসাম্যহীন হয়ে যায়,যার কারণে মাছের মৃত্যু অবধারিত কিন্তু বায়োফ্লকে এই অ্যামোনিয়া খাদ্যে রূপান্তরিত হয়।এছাড়াও জলের সমস্ত প্যারামিটার বায়োফ্লকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ফলে উন্নত মাছ চাষ সহজেই সম্ভব হয়।

》বর্তমানে ক্রমবর্ধমান মাছের চাহিদা মেটানোর জন্য বায়োফ্লক ভীষণ উপযোগী।সেসব দিক দিয়ে বায়োফ্লকের আয়ের একটি মাধ্যমে হতে পারে।

● বায়োফ্লকের নিয়মাবলী

আমাদের মধ্যে বেশীরভাগেরই ধারণা যে “পুকুরে মাছ ছেড়ে দিলেই মাছ বড় হয়ে যাবে”,সেই কারণেই আমরা মাছ খেতে ভালোবাসলেও সঠিক প্রণালীতে বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষ করতে মোটেও ভালোবাসিনা।
হয়তো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মৎস্য চাষ সম্পর্কে স্বল্প-অবৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকার কারণেই অনেকাংশে দায়ী।

সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে চলে,

মাছ চাষও তার ব্যাতিক্রম নয়।যেহেতু আজকের আলোচ্য বিষয় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ তাই এই পদ্ধতিতে চাষের যে কিছু বিশেষ নিয়মাবলী আছে চেষ্টা করবো সহজ ভাবে আলোচনা করার-

১. স্থান নির্বাচন

যেকোনো চাষের জন্য সর্বোপ্রথম যে কাজ করতে হয় তা হলো স্থান নির্বাচন। বায়োফ্লকের জন্য আকাঙ্খিত স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদিও কোনো বিশাল মানদণ্ড নেই তবে যে জায়গাতে প্রকল্প হবেতা নিয়ে কয়েকটা ব্যপার মাথায় রাখা যেতেই পারে।

▪︎ পরিস্কার বিশুদ্ধ জলের উৎস থাকতে হবে।
▪︎ পরিবহন ব্যবস্থা যেনো ভালো থাকতে হবে।
▪︎ সহজেই বন্যা তথা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
▪︎ বিদ্যুৎ পরিসেবা থাকতে হবে।
▪︎ সামাজিক সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা থাকতে হবে।

২.বায়োফ্লকের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা

□মাছ পালনের জন্য একটি ট্যাংক (তার্পোলিন অথবা সিমেন্টের তৈরী)
□জল
□মাছের পোনা
□লবনাক্ততা মাপার জন্য টিডিএস মিটার
□মাস্টার টেস্ট কিট (অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট,নাইট্রাইড,pH)
□অ্যালকানিটি মিটার
□থার্মোমিটার
□ইমহফ কোন
□ডিও মিটার
□থার্মোস্ট্রেট
□ইনভার্টার
□পাম্প
□এয়ার স্টোন
□ফিল্টার
□পিভিসি পাইপ
□সেড তৈরির জন্য বাঁশ,সেডনেট এবং অন্যান্য
□প্রোবায়োটিক
□মাছের খাবার
□লবন
□মোলাসিস/চিনি/গুড়
□দৈর্ঘ্য মাপার স্কেল (সাথে ওজন মাপার ব্যবস্থা থাকলে আরো ভালো) ইত্যাদি

》মাছ চাষের জন্য ট্যাংক এবং সেড নির্মাণ

মাছ চাষের জন্য সর্বপ্রথম ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে।বায়োফ্লকে গোলাকার ট্যাংক সবচেয়ে ভালো তবে আয়তাকার বা বর্গাকার ট্যাংকের কোন গুলো যদি একটু গোল করা যায় (যাতে জলের মধ্যে ঘূর্ণন হয়) তবে সেই ট্যাংকেও ভালোভাবেই মাছ চাষ করা যায়।লক্ষ্য রাখতে হবে ট্যাংকের ভিতরের দেয়াল যেনো খসখসে না হয় অন্যথায় অ্যামোনিয়া জনিত কারণে মাছ মারা যেতে পারে। ট্যাংক নির্মাণের জন্য আমরা তার্পোলিন অথবা সিমেন্ট এর ব্যবহার করতে পারি এব।ট্যাংকের আয়তন এবং সংখ্যা উদ্যোক্তার পূঁজি এবং জায়গার উপর নির্ভর করে।

ট্যাংক নির্মাণের পর ট্যাংকের চারপাশে কেন্দ্র করে সূর্যের আলো বৃষ্টি ইত্যাদির থেকে সুরক্ষার জন্য একটি সেড নির্মাণ করতে হবে।

》জল

বায়োফ্লকের জন্য নলকূপের জল ব্যবহার করা যায় তবে ওয়াটার সাপ্লাইয়ের জল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ভালো কারণ ঐ জলের মধ্যে যে ক্লোরিন থাকে তা জলের অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি করে।জলের উৎসের সাথে ওয়াটার পাম্প লাগাতে হবে যাতে প্রয়োজন মতো জল দেয়া যায়।

》জলের লবণ তথা স্যালিনিটি

বায়োফ্লকের জন্য জল তৈরি করার জন্য ১ হাজার লিটারে প্রায় ১ কেজি থেকে ১.৫ কেজি লবণ মিশাতে হবে।কারণ লবণ জলের অক্সিজেনের পরিমাণ সঠিক রাখে,মাছের দৈহিক ক্লান্তি দূর করে খাবার হজম করতে সাহায্য করে,অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণ করে ফ্লক তৈরি করতে সাহায্য করে।তবে খেয়াল রাখাতে হবে ট্যাংকে যেনো অতিরিক্ত লবণ দেয়া নাহয় কারণ মিঠা জলের মাছের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ চাষের বিঘ্ন ঘটায়।

》জলের অম্লত্ব এবং ক্ষারত্ব (pH)

মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় pH 07-7.5 হলে সবচেয়ে ভালো,pH কমে গেলে যে অম্লীয় অবস্থার সৃষ্টি হয় তা যেমন মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি pH বেড়ে গেলে যে ক্ষারীয় অবস্থার সৃষ্টি হয় তাও মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকর।

pH কমে গেলে প্রতি ১০০০ লিটারে প্রায় ১ কৌটা চামচ চুন দুইদিন ভিজিয়ে দিতে হয় আবার pH বেড়ে গেলে তেঁতুলের জল মেশালে pH নিয়ন্ত্রিত থাকে।

》অ্যামোনিয়া

মাছ একটি অ্যামোনোটেলিক প্রাণী অর্থাৎ মাছ তার রেচন প্রক্রিয়ার দেহ থেকে অ্যামোনিয়া নির্গত করে।যতবেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার ট্যাংকে দেয়া হবে তত বেশি অ্যামোনিয়া বাড়ার সুযোগ থাকবে, দুই প্রকার অ্যামোনিয়া গ্যাসের মধ্যে অ্যামোনিয়াম সবচাইতে বেশি ক্ষতিকারক।

ট্যাংকের ভিতর এই অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই কার্বন উৎস হিসেবে মোলাসিস,চিনি অথবা গুড় ব্যবহার করা হয় এবং প্রোবায়োটিকের (মূলত হেটারোট্রপিক ব্যকটেরিয়া) উপস্থিতি এই অ্যামোনিয়া প্রোটিনে রূপান্তরিত হয় যা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।

》ফ্লক কি

ফ্লক মানে ব্যাকটেরিয়াদের একটা গুচ্ছ,এই ফ্লকের উপর সম্পূর্ণ চাষ নির্ভর করে।একটি ট্যাংকে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার ফ্লক থাকার প্রয়োজন এবং ইমহফ কোনের মাধ্যমে আমরা ফ্লক মাপতে পারি।ট্যাংকে মাছ ছাড়ার পূর্বেই ফ্লক তৈরি করে নিতে হবে।

》মাছের পোনা নির্বাচন

এবার আসা যাক আসল থেকে আসল কথায়,যেকোনো চাষেই সবকিছু সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভালো থেকে ভালো তম ব্যবস্থাপনা করলেও বীজ যদি ভালো না তবে ফসল উৎপাদন কখনোই সম্ভব নয়।

মাছ চাষও তার ব্যাতিক্রম নয়, মাছ চাষের জন্য সুস্থ সবল,উচ্চ ফলনশীল এবং উচ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মাছের পোনা নির্বাচন করতে হবে।বায়োফ্লকের জন্য তেলাপিয়া,কৈ,পাঙ্গাস,শিং,মাগুর,গুলসা ইত্যাদি সবচেয়ে বেশী লাভজনক।একে উচ্চমূল্য তার উপর স্বল্পসময়েই বাজার জাত করা যায় বলেই এই মাছ গুলি বায়োফ্লকের জন্য একদম উপযুক্ত।

》তাপমাত্রা,ডিও এবং খাবার

সাধারণত মাছ চাষের জন্য ২৭° থেকে ৩২° সেলসিয়াস, তবে নিম্নে ২২° এবং উদ্ধে ৩৫° পর্যন্ত মাছের ফলন ভালোই হয়।অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি আবার অক্সিজেন হ্রাসের কারণ। ৪.৫ – 0৫ ppm অক্সিজেনের নির্ধারিত পর্যায়।মাছ চাষের জন্য ভাসমান খাবারই সবচেয়ে ভালো।

বায়োফ্লকের জন্য একসাথে অনেক ট্যাংকের কোনো
প্রয়োজন নেই,আপনি চাইলে মাত্র ১০ হাজার লিটারের একটি ট্যাংকের থেকেই শুরু করতে পারেন,নিম্নে তার একটি হিসেব দেয়া হলো –

》১০ হাজার লিটারের একটি ট্যাংকে আয়-ব্যায়ের হিসেব

যে কোনো ব্যবসাতেই দুটো ব্যায় (cost) কাজ করে যথা মূলধন ব্যায় (capital cost) এবং পূনরাবৃত্তি ব্যায় ( recurring cost)। ধরি –

》মূলধন ব্যায়

বায়োফ্লকের একটি ১০ হাজার লিটারের সম্পূর্ণ তার্পোলিন ট্যাংক তৈরী করতে প্রায় ২৮ হাজার টাকা.
অ্যারিয়েশন যন্ত্রপাতি এবং এয়ার পাইপের জন্য ১৯ হাজার টাকা.
জল পরিক্ষার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য ০৩ হাজার টাকা.

সর্বোমোট ৫০ হাজার টাকা।

》পূনরাবৃত্তি ব্যায়

৬০০০ মাছের পোনা (উদাঃ ভিয়েতনামি কৈ)প্রায় ০৪ টাকা দরে প্রায় ২৪ হাজার টাকা
৬ মাসে ৪০০ কেজি খাবার লাগে প্রায় ৫০ কেজিতে যার মূল্য ২০ হাজার টাকা।
৬ মাসেবিদ্যুৎ বিল বাবদ ৮ টাকা ইউনিটে প্রায় ৮ হাজার টাকা
নূন্যতম ৩০০০ টাকা মাসে একজন শ্রমিকের ৬ মাসের পারিশ্রমিক ১৮ হাজার টাকা
প্রোবায়োটিক,গ্রোথ প্রোমোটারস এবং মেডিসিন বাবদ ৬ হাজার টাকা।

সর্বোমোট ৭৬ হাজার টাকা।

》মোট আয়

ট্যাংকে যে ৬ হাজার কৈ মাছ স্টক করেছি ৬ মাসে তার ৯০ শতাংশ ৬০ গ্রাম ওজন করে হয় তাহলে ৩২৪ কেজি মাছ উৎপাদিত হয়।
৪০০ টাকা করে ৩২৪ কেজি মাছের মূল্য ১২৯,৬০০ টাকা।
মোট আয় – পূনরাবৃত্তি ব্যায় ( ১২৯৬০০-৭৬০০০) = ৫৩ হাজার।
অর্থাৎ একবছরে মধ্যে যদি দুই বার মাছ উৎপাদন করা হয় তবে উদ্যোক্তা প্রথম বারেই (৬ মাসের মধ্যে) তার লগ্নিকৃত পুঁজি তুলে আনতে সক্ষম। তবে এই সমস্ত আয়-ব্যায়ের হিসেব শর্ত সাপেক্ষে পরিবর্তিত হয়।

সঠিক ভাবে চাষ করলে,বাজার ব্যবস্থা থাকলে আর কোনো দূর্ঘটনা না ঘটলে বায়োফ্লকে সফল হওয়া কোনো বড় ব্যপারই নয়,তাই একজন সফল মাছ চাষী হতে গেলে পরিশ্রম এবং পড়াশোনা দুটোই করতে হবে শুধু ইউটিউবের স্বপ্নগুলো দেখলেই হবেনা,বাস্তবের মাটি অনেক আলাদা।সঠিক প্রশিক্ষণ এবং যোগ্য প্রশিক্ষক ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে তাই সেইক্ষেত্রে একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে।

ত্রিপুরা রাজ্যে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ বাইরের থেকে আমদানি করতে হয় যার কারণে এখানে মাছ চাষে একটা বড়ো সম্ভাবনা আছে এবং অ্যাকোয়া ডক্টর সলিউশন এই লক্ষ্যে কাজ করছে।

✍ দেবতনু বর্মন ✍সৈকত সরকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page