Wed. Dec 11th, 2019

Janadarpan

জনদর্পণ জনতার– প্ল্যাটফর্ম

দেনার দায়ে আত্মঘাতি ব্যবসায়ী

1 min read

নিজের প্রিয় দোকানেই ফাঁসিতে ঝুলে অস্বাভাবিক মৃত্যু এক ব্যবসায়ীর। দোকানের ২০ বছরের বিশ্বস্ত কর্মচারীকে বাড়ি যাওয়ার পথে মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। এরআগে স্ত্রীর সাথেও ফোনে কথা বলে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দোকানের দরজা আধা লাগিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে পড়েন। রাজধানীর বটতলা বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বাড়ির লোকদের দাবি বাজারে অনেক ধারদেনা পড়ে রয়েছিল মৃত ব্যবসায়ী বিমল সাহার। সোমবার দুপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলেন আগরতলার বটতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা। বাজারের এক নম্বর গলির সবজি পট্টি এলাকায় নিজের দোকানেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় ৪২ বর্ষীয় গ্রোসারী ব্যবসায়ী বিমল সাহার। এডিনগর থানাধীন সুভাষ পল্লী এলাকার বাসিন্দা বিমল সাহাদের বহু বছর ধরে এই দোকানটি ছিল। আর এই দোকানের মুনাফা থেকেই গোটা পরিবারের ভরণপোষণ নির্ভর করতো। কিন্তু নিয়তির বিধানে বাড়ির সেই একমাত্র উপার্জনশীল মানুষটি ফ্রেম বন্দী হয়ে পড়লেন। সোমবার বিকেল প্রায় সাড়ে ৩টা নাগাদ ঘটনাটি নজরে আসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। এরপরই শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। খবর দেওয়া হয় পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বটতলা ফাঁড়ির পুলিশ। ছুটে আসেন মৃত ব্যবসায়ীর আত্মীয় পরিজনেরাও। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে জানা যায়, নিজের দোকানের দরজা আধা অবস্থায় লাগিয়ে ভেতরে থাকা সিলিং ফ্যানে গামছা বেঁধে ফাঁসিতে ঝুলে থাকেন বিমল সাহা। দীর্ঘ সময় তাকে ফোন করে না পেয়ে পাশের ব্যবসায়ীদের ফোন করে ঘটনাটি জানতে পারেন দোকানের দীর্ঘ বছরের বিশ্বস্ত কর্মচারী। দোকান কর্মচারী বিশ্বজিত সাহা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই দোকানে কাজ করছেন। সোমবার দুপুর দুটো নাগাদ বিমল তাকে বলেন, বাড়ি যাওয়ার জন্য। বাড়িতে যাওয়ার আগে মেয়েকে স্কুল থেকে নিতে বলেন। বিশ্বজিতকে তিনি জানান, গোলবাজার থেকে দোকানের জন্য কিছু জিনিষপত্র নিয়ে আসবেন। যদিও কর্মচারী নিজেই গোলবাজার থেকে জিনিস আনার কথা বললে আপত্তি জানান বিমল বাবু। মালিকের আপত্তির জন্য বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন বিশ্বজিত। তবে এরআগে বিমল বাবু বাড়িতে ফোন করে তার স্ত্রীর সাথেও কথা বলেন। পরে প্রয়োজন সাপেক্ষে তাকে বারবার ফোন করেও না পাওয়ায় পাশের ব্যবসায়ীকে ফোন করে মালিকের খবর নিতে বলেন বিশ্বজিত। তখনই ফাঁসিতে ঝুলে থাকতে দেখা যায় তাকে। এদিকে মৃত বিমল সাহার ভগ্নীপতি জানিয়েছেন, দুপুর ২টা ১৩ মিনিটের সময় তার সাথে বিমলের শেষবার কথা হয়েছে। এরপরেই ঘটনাটি জানতে পারেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আরো জানান, বেশ কয়েকজনের কাছে প্রচুর পরিমাণে ঋণ জমে রয়েছিল বিমলের। এর উপর অনেকদিন ধরেই ব্যবসায় মন্দা চলছিল। সেই দেনার থেকেও এই ঘটনা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা তদন্তকারী অফিসার প্রাথমিক তদন্তের পর এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে ঘিরে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মৃতের পরিবারে বয়স্কা মা, স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে, ভাই সহ অন্যান্য আত্মীয় পরিজনেরা রয়েছেন। সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন জনের কাছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা দেনা রয়েছে মৃত ব্যবসায়ীর। তাই ধারণা করা হচ্ছে দেনাদারদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. |