Wed. Dec 11th, 2019

Janadarpan

জনদর্পণ জনতার– প্ল্যাটফর্ম

আগামী ১০ ডিসেম্বর রায়দান

1 min read
badal choudhury

পূর্ত কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সংক্রান্ত আবেদন মামলায় সোমবার চূড়ান্ত শুনানি হল উচ্চ আদালতে। প্রধান বিচারপতি এ এ কুরেশি এবং বিচারপতি অরিন্দম লোধের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন দুই পক্ষের আইনজীবীরা। প্রাক্তন পূর্ত মন্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী এই মামলায় তার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোন অবস্থাতেই অভিযোগ টিকে না বলে জোর সওয়াল করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের পর ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ১০ ডিসেম্বর রায়দানের ঘোষণা দেয়। আরো কিছুদিন ঝুলে থাকলো বাম জমানার হেভিওয়েট পূর্ত মন্ত্রী তথা সিপিএমের শীর্ষ নেতা বাদল চৌধুরীর ভাগ্য। আর প্রায় এক সপ্তাহ পরেই ত্রিপুরা হাইকোর্ট তার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পূর্ত কেলেঙ্কারি মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা কিংবা জামিন পাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরিভাবে এখন রয়েছে উচ্চ আদালতের হাতে। তাই সোমবার চূড়ান্ত শুনানির দিনে উচ্চ আদালত চত্বরে এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়ে যায় গুঞ্জন। কারণ এই মামলা সংক্রান্ত ইস্যুতে উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে যেভাবে তথ্য প্রমাণ ইস্যুতে সরকার পক্ষকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে তাতে আসন্ন রায়দানকে ঘিরে উচ্চাশাই ফুটে উঠলো বাম শিবিরের মধ্যে। দেরীতে হলেও কিছুটা আশার আলো এখন দেখতে পাচ্ছেন তারা। ২০০৮-৯ অর্থ বছরে পূর্ত দপ্তরে ৬০০ কোটি কেলেঙ্কারি ইস্যুতে গত ১৩ অক্টোবর পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই এই ইস্যুতে শুরু হয়ে যায় শাসক বিরোধী পক্ষের মধ্যে জোর চাপানউতোর। এর নেপথ্যে অন্যতম কারণই হচ্ছে বাম জমানার তদানীন্তন পূর্ত মন্ত্রী বাদল চৌধুরীর নাম জড়িয়ে যাওয়া। বাদল বাবুর পাশাপাশি এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয় প্রাক্তন মুখ্যসচিব যশপাল সিং এবং প্রাক্তন মুখ্য বাস্তুকার সুনীল ভৌমিককে। এর মধ্যে প্রাক্তন মুখ্য বাস্তুকার পুলিশের জালে উঠলেও বাদল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা মোটেই সহজ হয়নি তদন্তকারীদের। এই ইস্যুতে জলঘোলা কম হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২১ অক্টোবর রাতে আইএলএসে চিকিৎসা করাতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন পূর্ত মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বাদল বাবু। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে পরদিন আদালতে তোলা যায়নি। পরবর্তী সময়ে ৩০ অক্টোবর তাকে একবার আদালতে হাজির করানোর চেষ্টা হলে থানার লকআপে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে জিবিতে নিয়ে যেতে হয়। এই অবস্থায় গত ৮ অক্টোবর বিশেষ আদালতে দিনভর শুনানির পর বাদলকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়। ১১ নভেম্বরই শর্তসাপেক্ষে প্রাক্তন পূর্ত মন্ত্রীকে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। যথারীতি এনসিসি থানায় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চারদিনের রিমান্ড কাটিয়ে ফের প্রভুরামপুর সংশোধনাগারে নিলে সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী। এরমধ্যে বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা FIR প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন জানান তার আইনজীবীরা। সে মোতাবেক ২৬ নভেম্বর শুনানির দিন তারিখ ধার্য হয়। যথারীতি নির্ধারিত দিনে ২৬ নভেম্বর এই আবেদনের উপর শুনানি হয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু সেদিন সরকার পক্ষের তরফে এডভোকেট জেনারেল উচ্চ আদালতের কাছে কিছু সময়ের জন্য আবেদন জানালে এই শুনানি ফের ২রা ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দিনে সোমবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এ এ কুরেশি এবং বিচারপতি অরিন্দম লোধের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। তথ্য প্রমাণ পেশ করে এদিন এই মামলায় অভিযুক্তের হয়ে ডিভিশন বেঞ্চে জোর সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতে তার যুক্তি ছিল যে দুর্নীতি ইস্যুতে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল সেটা কোনভাবেই করা যায় না। কারণ মন্ত্রীসভা এবং বিধানসভার সিদ্ধান্তক্রমেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তাই এতে বাদল চৌধুরীর কোন হাত ছিল না। বিকাশ বাবুকে এদিন মামলা পরিচালনায় সহায়তা করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ। সাক্ষাতে তিনিও এই মামলার খুঁটিনাটি তথ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। অপরদিকে সরকার পক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেছেন এডভোকেট জেনারেল অরুণ কান্তি ভৌমিক। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের আইনজীবীদের জোর সওয়াল যাচাইয়ের পর উচ্চ আদালত এই আবেদনের রায় আগামী ১০ ডিসেম্বর ঘোষণা করার আদেশ দেয়। আর ততদিন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে অপেক্ষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. |